তাহাজ্জুদ নামাজ

5 months ago
465

সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহ মুসলমানদের উপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করার নির্দেশ দেওয়ার পর, এবং মুসলমানদের সর্বাবস্থায় তাকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারী উপাধি ও সুন্নাহগুলির মধ্যে যা খুশি তা পালন করার জন্য বেছে নিয়েছেন। তার দিন ও রাতে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের উপাসনা এবং আনুগত্য করা হয়, সেই সময়গুলি ব্যতীত যখন নামায নিষিদ্ধ। এতে এবং সর্বোত্তম সময়ের মধ্যে যে সময় একজন ব্যক্তি তার স্রষ্টার নিকটবর্তী হয় তা হল রাতের শেষ সময়, এবং এর মধ্যে এতে যে ইবাদতগুলো করা হয় তাকে তাহাজ্জুদ নামাজ বলা হয়।

প্রশ্ন সমূহ

  • নিয়মিত তাহাজ্জুত নামাজ পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার উপায় তাহাজ্জুত নামাজ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর রাজি ও খুশি করতে বলেছেন। তাহাজ্জুদ নামাজ দুআ কবুলের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল।তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে দুনিয়াতে পাঁচটি মর্যাদা পাওয়া যায়।

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার আগে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর তাহাজ্জুদ নামাজ বাধ্যতামূলক ছিল।মুসলিম ও মুমিন বান্দাদের জন্য তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। তাহাজ্জুদ (تهجد) অর্থ ঘুম থেকে জাগা। তাহাজ্জুদ নামাজ‌ বা রাতের নামাজ হচ্ছে একটি নফল ইবাদত।ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হল তাহাজ্জুত নামাজ ।হাদীসের কোথাও বর্ণিত নেই কোন সূরা দ্বারা তাহাজ্জুত নামাজ পড়তে হবে ।তবে যে কোন সূরা দিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যায়।

  • তাহাজ্জুদ (تهجد) অর্থ ঘুম থেকে জাগা। তাহাজ্জুদ নামাজ‌ বা রাতের নামাজ হচ্ছে একটি নফল ইবাদত।অর্থাৎ মধ্যরাতে মানুষ তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে থাকে ।এ নামাজের ফজিলত অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে তাহাজ্জুদ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়।

  • রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক লম্বা কেরাত পড়তেন। অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু, সেজদা আদায় করা। এভাবেই দ্বিতীয় রাকাআত আদায় করে তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া মাছুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা। এভাবে দুই দুই রাকাআত করে ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা উত্তম।

  • তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আরবি ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া।

  • মধ্যরাতের পরে বা রাতের দুই-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলে তাহাজ্জুদ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়। রাত দুইটার পর থেকে ফজরের নামাজের ওয়াক্ত আরম্ভ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত। সাহরির সময় শেষ হলে তথা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে তাহাজ্জুদের ওয়াক্ত শেষ হয়।

  • রাসুলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাজ কখনো ৪ রাকাত, কখনো ৮ রাকাত এবং কখনো ১২ রাকাত পড়েছিলেন। তাই রোজাদার ব্যক্তির তাহাজ্জুদ নামাজ কমপক্ষে ৪ রাকাত আদায় করা উচিত।

না ঘুমিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লে হবে কি?

রাতে আমি অনলাইনে কাজ করি তাই অনেক রাত পর্যন্ত আমাকে জেগে জেগে থাকতে হয়। তাহাজ্জুদ নামাজ ঘুম থেকে উঠে পড়া কি জরুরি।
  • শয়তানের আক্রমণেও কার্যকরী আমল এটি। রাতের কিছু অংশ ঘুমানোর পর ওঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে হয়। এ নামাজ পড়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব হয়। শয়তানের যাবতীয় অনিষ্টতা থেকে মুক্তি পায় মুমিন মুসলমান।

  • জ্বি যাবে। তবে উত্তম হলো রাতের নামাজকে বেজোড় করে দেওয়া। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি এশার সালাতের সাথে সালাতুল বিতর আদায় করে নেওয়ার পর আবার যদি রাত জেগে থাকেন, তাহলে তিনি আবার তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে পারবেন। সেক্ষেত্রে বিতর দ্বিতীয়বার আর পড়তে হবে না। তবে উত্তম হলো তিনি যদি নিশ্চিত থাকেন যে, আমি ইনশা আল্লাহ শেষ রাতে নামাজ পড়ার জন্য উঠব, তাহলে নামাজকে বিতর দিয়ে বেজোড় করা। আর যদি যদি এশার সালাতের সাথে বিতর পড়ে থাকেন, তারপরও তাহাজ্জুদ পড়তে পারবেন, অসুবিধা নেই।

  • নফল ইবাদতের মধ্যে ইতিকাফের সময় তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আরবি 'তাহাজ্জুদ' শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া।

সূত্র লিঙ্ক (রেফারেন্স)