কলা গাছ: একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল

টপিক টি তৈরি করা হয়েছে 5 months ago
382বার দেখা হয়েছে

কলা গাছ (Musa sapientum) একটি বৃহৎ, বহুবর্ষজীবী ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ। এটি মালভেসি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কলা গাছ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফসলের মধ্যে একটি।


কলা গাছের জীবন চক্র


কলা গাছের জীবন চক্র তিনটি ধাপে বিভক্ত:


উদ্ভিদ বৃদ্ধির পর্যায়: এই পর্যায়ে কলা গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পাতা, কান্ড ও শিকড় গঠন করে। এই পর্যায়টি প্রায় ৬ থেকে ৯ মাস স্থায়ী হয়।

এই পর্যায়ে কলা গাছের পাতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং নতুন নতুন পাতা গজাতে থাকে। কলা গাছের কান্ডও ক্রমশ শক্ত ও উঁচু হয়। কলা গাছের শিকড় মাটিতে গভীরভাবে প্রবেশ করে এবং মাটি থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে।


ফলন ধারণের পর্যায়: এই পর্যায়ে কলা গাছে ফুল ও ফল ধরে। এই পর্যায়টি প্রায় ২ থেকে ৩ মাস স্থায়ী হয়।

এই পর্যায়ে কলা গাছের মোচা গজাতে শুরু করে। মোচা থেকে হলুদ রঙের ফুল ফোটে। ফুল থেকে কলা ধরতে শুরু করে। কলা ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং পরিপক্ক হয়।


মৃত্যু পর্যায়: এই পর্যায়ে কলা গাছ শুকিয়ে যায় এবং মারা যায়। এই পর্যায়টি প্রায় ১ থেকে ২ মাস স্থায়ী হয়।

এই পর্যায়ে কলা গাছের ফলন শেষ হয়ে যায়। কলা গাছ শুকিয়ে যায় এবং মারা যায়।


কলা গাছের ব্যবহার

কলা গাছের প্রধান ব্যবহার হল ফল হিসেবে। কলা একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ ও শর্করা রয়েছে। কলা খাওয়ার পাশাপাশি এটি বিভিন্ন খাবার ও মিষ্টান্ন তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়।


কলা গাছের অন্যান্য ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে:

গাছের কাণ্ড ও পাতা দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়।

  • কলা গাছের কাণ্ড ও পাতা দিয়ে ঘর, ছাউনি, চাল, নৌকা, ঝুড়ি, ডালা, পাখা ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

পাতা দিয়ে ঝুড়ি, ডালা, পাখা ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

  • কলা গাছের পাতা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি, ডালা, পাখা ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

কলার গাছের কষ থেকে রঙ তৈরি করা হয়।

  • কলার গাছের কষ থেকে হলুদ, কমলা, লাল ইত্যাদি রঙ তৈরি করা হয়।

কলার গাছের পাতা ও কষ থেকে ঔষধ তৈরি করা হয়।

  • কলার গাছের পাতা ও কষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ তৈরি করা হয়।


কলা গাছের বৈশিষ্ট্য


কলা গাছ সাধারণত ১০ থেকে ২০ ফুট উঁচু হয়। এর কাণ্ড গোলাকার ও মাংসল। এর পাতা লম্বা ও সরু। এর ফুল হলুদ রঙের হয়। এর ফল গোলাকার ও খাওয়ার উপযোগী।

কলা গাছের কাণ্ডের বাইরের অংশ শক্ত ও তন্তুযুক্ত। কাণ্ডের ভিতরের অংশ নরম ও মাংসল। কাণ্ডের ভিতরের অংশ থেকে কলাগাছের শিকড় গজায়।

কলা গাছের পাতা দীর্ঘ ও সরু। প্রতিটি পাতায় একটি শিরা রয়েছে। পাতায় কলাগাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঘটে।

কলা গাছের ফুল হলুদ রঙের হয়। ফুল থেকে কলা ধরে। কলার ফল গোলাকার ও খাওয়ার উপযোগী। কলা গাছের ফল থেকে বীজ হয়।


কলা গাছ এর প্রকার

কলা গাছের অনেক প্রকার রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রধান প্রকার হল:

  • চাঁপা কলা: চাঁপা কলা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলা জাতের মধ্যে একটি। এটি একটি মিষ্টি স্বাদের কলা।
  • অমৃতসাগর কলা: অমৃতসাগর কলা একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কলা জাতের মধ্যে একটি। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে।
  • সবরি কলা: সবরি কলা একটি মিষ্টি ও রসালো কলা জাতের মধ্যে একটি। এটি একটি সুস্বাদু ফল হিসেবে খাওয়া হয়।
  • কাঁচকলা: কাঁচকলা একটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে।
  • বিচি কলা: বিচি কলা একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কলা জাতের মধ্যে একটি। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে।

কলা গাছের আয়ু

কলা গাছ সাধারণত একবার ফল দিয়ে মারা যায়। তবে কিছু কলা গাছ দুই বা তিনবার ফল দিতে পারে। কলা গাছের জীবনকাল সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর।


কলা গাছের গুরুত্ব

কলা গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফসলের মধ্যে একটি। কলা গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য, ঔষধ ও অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায়। তাই কলা গাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ।

আপনার মতামত দিন